Skip to content

মালভূমি কাকে বলে? মালভূমির বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

মালভূমি-কাকে-বলে-মালভূমির-বৈশিষ্ট্য-ও-উদাহরণ

হ্যালো বন্ধুরা, ভূগোলের আগের অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করেছি পর্বত ও পর্বতের শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে যেমন ভঙ্গিল পর্বত, স্তূপ পর্বতআগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত। আজ আমার এই পর্বে আলোচনা করব মালভূমি ও মালভূমির শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে যেমন মালভূমি কাকে বলে? মালভূমির বৈশিষ্ট্য কি কি? ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে? পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কাকে বলে? লাভা মালভূমি কাকে বলে? ইত্যদি। সুতরাং দেরি না করে শুরু করা যাক।

মালভূমি কাকে বলে ?

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 300 মিটারের অধিক উঁচুতে অবস্থিত খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউখেলানাে বিস্তীর্ণ ভূমিভাগকে মালভূমি বলা হয়।টেবিলল্যান্ড : অনেক, মালভূমির উপরিভাগ সমতল টেবিলের মতাে হয়, পর্বতের মতাে সূচাল ও শৃগযুক্ত হয় না। এরূপ মালভূমিকে টেবিলল্যান্ড বলা হয়।

মালভূমির বৈশিষ্ট্য :
1) মালভূমি হল বিস্তীর্ণ উঁচুভূমি।
2) মালভূমি খাড়া ঢালে সমভূমির সঙ্গে মিলিত হয়। মালভূমির উপরিভাগ ঢেউখেলানাে বা তরঙ্গায়িত হয়।
3) মালভূমির মধ্যে ক্ষয়জাত পাহাড় বা পর্বত দেখা যেতে পারে।
4) কোনাে কোনাে মালভূমির উচ্চতা 4000 মিটারেরও বেশি হয় । মালভূমি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়।

মালভূমির শ্রেণিবিভাগ:
ভূ-আলােড়ন ও পাত সঞ্চালন, ক্ষয়ীভবন ও ভূপৃষ্ঠে লাভা সঞ্চয়ের ফলে মালভূমি গঠিত হয়। তাই আকৃতি, বিস্তৃতি, উচ্চতা, গঠন বৈচিত্র্য, উৎপত্তির পার্থক্য প্রভৃতি অনুসারে মালভূমিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল
1) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
2) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি ও
3) লাভা মালভূমি।

ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateaus)

ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে?
কোনাে বিস্তীর্ণ মালভূমি অঞল অনেকগুলি নদী উপত্যকা দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হলে তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে।

ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি সৃষ্টির কারণ:
ক্ষয়ের ফলে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়ের প্রভাবে প্রাচীন মালভূমি ও বিস্তৃত উঁচুভূমির কোমল শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছােটো ছােটো পাহাড়রূপে অবস্থান করে। এরূপ পাহাড়গুলির উচ্চতা অনেক সময় প্রায় একই হয় (Accordant summit)। বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন খরস্রোতা নদীর ক্ষয়কাজের ফলে। ওই পাহাড়গুলি পুরােপুরি বিচ্ছিন্ন ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে পড়ে। এইভাবে বিভিন্ন নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির সৃষ্টি হয়।

ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির উদাহরণ : ভারতের ছােটোনাগপুর মালভূমি, কর্নাটকের মালনাদ অঞ্চল, গ্রেট ব্রিটেনের স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস – এর উঁচুভূমি প্রভৃতি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane plateaus)

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কাকে বলে?
চারদিকে পর্বত দ্বারা বেষ্টিত হয়ে যে সব উঁচু মালভূমির সৃষ্টি হয় তাদের পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি সৃষ্টির কারণ:
ভূ-আলােড়ন ও পাত সঞ্চালনের ফলেই পর্বতবেষ্টিত মালভূমির সৃষ্টি হয়। পর্বত সৃষ্টির সময় প্রবল পার্শ্বচাপের প্রভাবে দুটি পাতের মুখােমুখি সংঘর্যের ফলে একটি পাতের নীচে অপর পাতের অনুপ্রবেশ এবং দুটি পাতের বিপরীতমুখী চাপের প্রভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ পর্বতবেষ্টিত মালভূমি মালভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

উদাহরণ : উত্তরে কুনলুন এবং দক্ষিণে কারাকোরাম, হিমালয় ও তিয়েন শান দ্বারা বেষ্টিত তিব্বত মালভূমি, পন্টিক ও টরাস পর্বত দ্বারা বেষ্টিত আনাতােলিয়া মালভূমি, এলবুর্জ ও জাগ্রোস পর্বত দ্বারা বেষ্টিত ইরাক মালভূমি প্রভৃতি।

লাভা মালভূমি (Lava plateaus)

লাভা মালভূমি কাকে বলে?
ক্রমাগত লাভা সঞ্জয়ের ফলে ভূপৃষ্ঠ উঁচু হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি হয় তাকে লাভা মালভূমি বলে।

লাভা মালভূমি সৃষ্টির কারণ
সঞ্চয়ের ফলে লাভা মালভূমির সৃষ্টি হয়। ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূগর্ভের ম্যাগমা অনেক সময় কোনােরকম বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে তরল লাভারূপে ভূপৃষ্ঠের ওপর বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সঞ্চিত হয়। এইরূপে ক্রমাগত লাভা সঞ্চয়ের ফলে এই অঞলটি উঁচু হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে মালভূমিতে পরিণত হয়।

উদাহরণ : ভারতের মহারাষ্ট্র মালভূমি ও মালব মালভূমি, আফ্রিকার আবিসিনিয়া ও সােমালিয়া মালভূমি, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া মালভূমি প্রভৃতি।

***ডেকানট্রাপ*** : ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমে মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের কিছু অংশে প্রায় 7-13 কোটি বছর আগে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ফাটলের মধ্য দিয়ে তরল লাভা বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্জিত হয়েছিল। পরে ওই লাভা জমাট বেঁধে লাভা মালভূমির সৃষ্টি হয়েছে। লাভা সঞ্চয়ের প্রকৃতি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কাজের প্রভাবে এই অঞ্চলটি পশ্চিম থেকে পূর্বে। সিঁড়ির মতাে ধাপে ধাপে নেমে গেছে। তাই এই অঞ্চলকে ডেকান ট্র্যাপ [ডেকান =দাক্ষিণাত্য, ট্র্যাপ(সুইডিশ শব্দ) = ধাপ বা সিঁড়ি ] বলা হয়।

আমাদের এই পোস্ট টি ভাল লাগলে অববশ্যই share করুন এবং এর কোনরকম সুন্দর একটি pdf file পেতে হলে whatsapp/ telegram এ যুক্ত হয়ে সরাসরি pdf file এর জন্য জিজ্ঞেস করতে পারেন।

image credit- wikiwand.com
image modified by- www.studiouss.com

Share this

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram

Related Posts

Comment us

2 thoughts on “মালভূমি কাকে বলে? মালভূমির বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ”

  1. Pingback: সমভূমি কাকে বলে? সমভূমির বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ – Studious

  2. Pingback: আবহবিকার কাকে বলে? যান্ত্রিক আবহবিকার ও রাসায়নিক আবহবিকার – Studious

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page