Skip to content

রাসায়নিক বিক্রিয়া কাকে বলে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণ ও বৈশিষ্ট্য

  • by
রাসায়নিক বিক্রিয়া কাকে বলে

প্রিয় পাঠকগণ আজ আমরা এই পোস্ট টিতে আমরা জানবো রাসায়নিক বিক্রিয়া কাকে বলে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণ, রাসায়নিক বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি কি কি, রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিভিন্ন প্রভাবক গুলি ইত্যাদি।

রাসায়নিক বিক্রিয়া কাকে বলে?

রাসায়নিক বিক্রিয়া ( Chemical reaction ) : যে প্রক্রিয়ায় কোনো পদার্থ বিয়োজিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক পদার্থ উৎপন্ন করে বা একাধিক পদার্থ পরস্পর যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক পদার্থ গঠন করে, সেই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রাসায়নিক বিক্রিয়া।

বিক্রিয়ক পদার্থ (Reactant): রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যেসব পদার্থ অংশগ্রহণ করে এবং যেসব পদার্থের অণুর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মের অন্য পদার্থ উৎপন্ন হয়, তাকে বিক্রিয়ক বলে।

বিক্রিয়াজাত পদার্থ (Product) : রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এক বা একাধিক বিক্রিয়ক পরস্পর বিক্রিয়া করে যে ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে, তাকে বিক্রিয়াজাত পদার্থ বলে।

নীচে একটি উদাহরণের সাহায্যে বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ বোঝানো হল—

N2 (গ্যাস) + 3H2 (গ্যাস) = 2NH3 (গ্যাস) নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয় । এখানে নাইট্রোজেন (N2) ও হাইড্রোজেন (H2) হল বিক্রিয়ক কারণ— এরা পরস্পর রাসায়নিক বিক্রিয়া করে নতুন পদার্থ অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করেছে। সুতরাং, অ্যামোনিয়া (NH3) হল বিক্রিয়াজাত পদার্থ। এক্ষেত্রে, বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলি গ্যাসীয়।

রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণ

কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সঠিক কারণ নির্দেশ করা কঠিন। তবে রসায়নবিদগণ মনে করেন যে, বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহের পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হওয়ার প্রবণতা বা আসক্তি আছে। এ আসক্তির বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। যেমন- ধাতুসমূহের সাথে অধাতুসমূহের মিলিত হওয়ার বিশেষ আসক্তি আছে। তাই সোডিয়াম ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড উৎপন্ন করে।

2Na + Cl2 = 2NaCl

আবার কপারের চেয়ে জিংকের ইলেকট্রন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই জিংক পরমাণু ইলেকট্রন ছেড়ে দিয়ে কপার সালফেট হতে প্রতিস্থাপিত করে।

CuSO4 + Zn = ZnSO4 + Cu

রাসায়নিক বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য

রাসায়নিক বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি হল :

1) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থের সমস্ত ধর্ম লোপ পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়। ও একধরনের পদার্থ অন্য ধরনের পদার্থে পরিণত হলেও মোট ভর অপরিবর্তিত থাকে। এটিই ভরের নিত্যতাসূত্র।

2) বিক্রিয়ক পদার্থ এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থের মোট পরমাণু সংখ্যা সর্বদা নির্দিষ্ট থাকে। ও বিক্রিয়ক পদার্থগুলি নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে পরস্পর যুক্ত হয়ে বিক্রিয়াজাত পদার্থ উৎপন্ন করে।

3) বিক্রিয়ক পদার্থের অণুর গঠন বিক্রিয়াজাত পদার্থের অণুর গঠনের থেকে পৃথক হয়। বিক্রিয়ক পদার্থের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় তাপের উদ্ভব বা শোষণ হবেই।

4) রাসায়নিক বিক্রিয়া চলাকালীন বর্ণ পরিবর্তন , গ্যাস নির্গমন, অধঃক্ষেপণ, তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটি একটি পারমাণবিক ঘটনা যাতে পরমাণুগুলি অংশগ্রহণ করে।

5) রাসায়নিক বিক্রিয়া আলো, চাপ, তাপ, তড়িৎ, দ্রাবক প্রভৃতি প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: 

 

রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রভাবক কাকে বলে?

উত্তর: অধিকাংশ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শুধুমাত্র বিক্রিয়কগুলিকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনলেই বিক্রিয়া হয় না। বিক্রিয়া শুরু করতে তাপ , চাপ , আলো, দ্রাবক, তড়িৎ, অনুঘটক প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ের প্রয়োজন হয় যেগুলি বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিত বা প্রভাবিত করে। তাদের রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রভাবক বা নিয়ন্ত্রক বলে। রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় প্রভাবকগুলি হল— তাপ , চাপ , আলো , দ্রাবক ও তড়িৎ।

Covered Topics: রাসায়নিক বিক্রিয়ার সংজ্ঞা, রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণ, রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রভাবক কাকে বলে?, বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ কাকে বলে,