Skip to content

স্থিতি ও গতি ( Rest and Motion )

স্থিতি ও গতি ( Rest and Motion )

 

 

হ্যালো বন্ধুরা, আপনাদের মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ। আজ আমাদের আলোচ্য বিষয় হল পদার্থবিদ্যার “স্থিতি ও গতি” অধ্যায়। এই অধ্যায়টি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুরু করা যাক—-

স্থিতি কাকে বলে?

পারিপার্শ্বিক বস্তুর সাপেক্ষে সময়ের সাথে যে বস্তুর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয় না বা একই অবস্থানে থাকে অর্থাৎ বস্তুটি প্রাথমিক অবস্থায় স্থির থাকে সেই বস্তুকে স্থির বস্তু এবং তার অবস্থা কে স্থিতি বলা হয়

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ঘরবাড়ি গাছপালা, পাহাড় পর্বত ইত্যাদি স্থির বস্তু।

গতি কাকে বলে?

পারিপার্শ্বিক বস্তুর সাপেক্ষে সময়ের সঙ্গে যে বস্তু অবস্থানের পরিবর্তন হয় সেই বস্তুকে গতিশীল বস্তু এবং তার অবস্থাকে গতি বলা হয়

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চলন্ত বাস, ট্রেন, ইত্যাদি গতিশীল বস্তু। এই বিশ্বে পরম স্থিতি পরম গতি বলে কিছুই নেই সকল বস্তুর স্থিতি ও গতি আপেক্ষিক

স্থিতি ও গতি কি ? `স্থিতি বলতে কজ বোঝো
স্থিতি ও গতি

এই মহাবিশ্বে পরম স্থিতি ও পরম গতি বলে কিছু নেই কেন? সকল বস্তুর স্থিতি বা গতি সর্বদা আপেক্ষিক কেন?

সবক্ষেত্রেই কোনো না কোনো নির্দেশতন্ত্রের সাপেক্ষে বস্তুর গতি বা স্থিতির পর্যালোচনা করা হয়। ফলে কোন বস্তু যেমন কোন একটি নির্দিষ্ট সাপেক্ষে স্থির হতে পারে তেমনি অন্য কোন নির্দেশ তন্ত্রের সাপেক্ষে গতিশীলও হতে পারে। যেমন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন ব্যক্তি একটি চলন্ত ট্রেনের যাত্রী কে গতিশীল বলে মনে করে আবার পাশাপাশি একইবেগে চলন্ত দুটি ট্রেনের যাত্রীরা পরস্পরকে স্থির বলে মনে করে। রেল লাইনের ধারে একটি গাছ ভূপৃষ্ঠের সাপেক্ষে স্থির কিন্তু উত্তর দিকে ধাবমান একটি ট্রেনের যাত্রী চোখে গাছটি দক্ষিণ দিকে গতিশীল। আবার সূর্যের সাপেক্ষে ভূপৃষ্ঠ অর্থাৎ পৃথিবী গতিশীল একইভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় চরম স্থিতি ও চরম গতি বলে কিছুই নেই অর্থাৎ সব স্থিতি বা গতি হলো আপেক্ষিক স্থিতি গতি গতি

নির্দেশ তন্ত্র কি?
কোন বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা হয় পারস্পারিক অন্য কোন বস্তু বা বস্তু সামগ্রীর সাপেক্ষে। এই অন্য বস্তু বা বস্তু সামগ্রীকে নির্দেশ তন্ত্র বলে। 

কোন বস্তুর গতি সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা
1.চলন গতি
2.ঘূর্ণন গতি
3.জটিল বা মিশ্র গতি।

চলন গতি কাকে বলে?
যদি কোন গতিশীল বস্তুর প্রতিটি কণা সরল রেখায় একই সময়ে একই দূরত্ব অতিক্রম করে তবে ঐ বস্তুর গতিকে চলন গতি বলে। যেমন ছাদ থেকে ছেড়ে দেওয়া কোন ঢিলের গতি।

ঘূর্ণন গতি কাকে বলে?
কোন বস্তু যখন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অক্ষের চারদিকে বৃত্তাকার পথে ঘোরে বা আবর্তন করে। তাকে ঘূর্ণন গতি বলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, বৈদ্যূতিক পাখার গতি ঘূর্ণন গতি।

জটিল বা মিশ্র গতি কাকে বলে?
চলন ও ঘূর্ণন গতির সংমিশ্রণে যে গতি সৃষ্টি হয় তাকে জটিল গতি বলে। উদাহরণ, বাস যখন চলে তখন এক চাকার ঘূর্ণন হয় আবার একই সঙ্গে চাকাটি রাস্তা বরাবর একটি নির্দিষ্ট দিকে অগ্রসর হয় এটি একটি জটিল গতি।

[আরও পড়ুন : মানব হৃৎপিন্ডের সম্পূর্ণ বিবরণ ও হৃৎপিণ্ড রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি বর্ণনা। (Blood circulation of heart)]

গতি সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাশি

সরণ কাকে বলে ?
গতিশীল বস্তুর একটি নির্দিষ্ট দিকে স্থান পরিবর্তন করলে তাকে বলে সরন। এটি একটি ভেক্টর রাশি। এর মান এবং অভিমুখ দুই আছে।

পরিমাপ: গতিশীল বস্তুর প্রাথমিক অবস্থানের অন্তিম অবস্থানে সরল রৈখিক দূরত্ব দূরত্ব স্বর্ণের পরিমাণ বস্তুর সরণ এর পরিমাণ। সি.জি.এস একক সেন্টিমিটার এবং এস.আই একক মিটার। মাত্রা []

দ্রুতি কাকে বলে?
কোন বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব(সরল বা বক্র যে কোন পথে) অতিক্রম করে তাকেই ঐ বস্তুর দ্রুতি বলে। এটি একটি স্কেলার রাশি। যদি কোন বস্তুর “t” সময়ে অতিক্রান্ত দুরুত্ব “s” হয় তাহলে কোন বস্তুর , দ্রুতি=অতিক্রান্ত দুরুত্ব/সময়

বেগ কাকে বলে?
কোন বস্তু একক সময়ে একটি নির্দিষ্ট দিকে যে দূরত্ব অতিক্রম করে অর্থাৎ ঐ বস্তুর সময়ের সাপেক্ষে সরনের হারকে বলে বেগ। এটি ভেক্টর রাশি। যদি কোন বস্তুর “t” সময়ে সরণ “s” হয় তাহলে কোন বস্তুর, বেগ= সরণ/সময়।

ত্বরণ কাকে বলে?
কোন বস্তু যদি ক্রমবর্ধমান বেগ নিয়ে চলে তবে একক সময়ে তার বেগ বৃদ্ধিকে বা বেগ বৃদ্ধির হারকে বলে ত্বরণ। এটি ভেক্টর রাশি।

মন্দন কাকে বলে?
কোন বস্তু যদি ক্রমবর্ধমান বেগ নিয়ে চলে তবে একক সময়ে তার বেগ হ্রাসের পরিমাণকে মন্দন বলে। এটি একটি ভেক্টর রাশি

গতিসূত্রের বিবৃতি (Statement of Law of motion )

এই মহাবিশ্বে গতিশীল বস্তু গুলির গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র 1687 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন “প্রিন্সিপিয়া” গ্রন্থে প্রকাশ করেন। এই গতিসূত্রগুলিই নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। পদার্থবিদ্যার কোন পুরনো তত্ত্ব থেকে এগুলি প্রমান করা যায় না ফলে এই সূত্র তিনটি কার্যত একটি নতুন শাখার সৃষ্টি করেছে এই শাখাটি হলো চল বিজ্ঞান (kinetic)

নিউটনের প্রথম গতিসূত্র : বাইরে থেকে নেট বল প্রযুক্ত না হলে স্থির বস্তু চিরকাল থাকবে এবং সচল বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।
(Every body persists in its sate of rest or of uniform velocity unless the body in compelled to change that state by a net external force)

নিউটনের প্রথম গতিসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী : এই সূত্র থেকে বলের সংজ্ঞা ও পদার্থের জাড্য ধর্ম সম্পর্কে জানা যায় নিউটনের প্রথম গতিসূত্র থেকে বস্তুর জাড্য ধর্ম ধারণা পাওয়া যায় তাই এই সূত্রকে জাড্য সূত্র বলা হয়।

বলের সংজ্ঞা: কোন স্থির বস্তু কে গতিশীল করতে বা গতিশীল করার চেষ্টা করতে কিংবা কোন গতিশীল বস্তুকে স্থির অবস্থায় আনতে বা আনার চেষ্টা করতে বাইরে থেকে যা বস্তুর উপর প্রয়োগ করতে হয় তাকে বল বলে।

জাড্যের সংজ্ঞা : পদার্থের যে ধর্মের জন্য  কোন বস্তু কোন বস্তু তার স্থিত বা গতির যে অবস্থায় আছে সে অবস্থাটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করে তাকেই ওই পদার্থের জাড্য বলে।
জাড্য দুই প্রকার
স্থিতি জাড্য : স্থির বস্তুর গতিশীল অবস্থায় রাখার প্রবণতাকে বলে স্থিতি জাড্য
গতিজাড্য : গতিশীল বস্তুর গতিও অবস্থা বজায় রাখার প্রবণতাকে বলে গতিজাড্য।

নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্র
কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকে ঘটে।
(The rate of change of momentum of a body is directly proportional to the impressed force and the change takes place in the direction in which the force acts)

নিউটনের দ্বিতীয় গতি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী
এই গতিসূত্র থেকে ভরবেগের ধারণা, বলের পরিমাণ, বলের একক সম্পর্কে জানা যায়।

ভরবেগ কি?
ভর ও বেগের সমন্বয়ে কোন গতিশীল বস্তু তে যে পরিমাণ গতির সৃষ্টি হয় তাকে ঐ বস্তুর ভরবেগ বলে সুতরাং উপরের সূত্র থেকে বলা যায় নির্দিষ্ট বস্তুর বেগ বাড়লে ভরবেগ বাড়ে ও বেগ কমলে ভরবেগ কমে। বেশি ভরবেগ সম্পন্ন বস্তুকে থামাতে বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়।

নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র
প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে। (To every reaction there is an equal and opposite reaction)

নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী: রকেটের বা জেট প্লেনের কার্যনীতি এই গতিসূত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র থেকে আমরা জানতে পারি একক বিচ্ছিন্ন বল বলে কিছু নেই। বল সর্বদা দ্বৈতভাবে অবস্থান করে একটি ক্রিয়া অপরটি প্রতিক্রিয়া বল। ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সমান ও বিপরীতমুখী হলেও পরস্পরকে প্রতিমীত করতে পারে না, কারণ ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া একযোগে একই বস্তুর উপর প্রযুক্ত হয় না।

যদি post টি ভালো লেগে থাকে তো অবশ্যই শেয়ার করুন বন্ধু দের সাথে। আরও নতুন update পেতে আমাদের blog এ নিয়মিত চোখ রাখতে ভুলবেন না।

Share this

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram

Related Posts

Comment us

6 thoughts on “স্থিতি ও গতি ( Rest and Motion )”

  1. Pingback: জোয়ার ভাটা কি? কেন জোয়ার ভাটা হয় ? – Studious

  2. Pingback: পৃষ্ঠটান ও সান্দ্রতা কি? । ধারারেখ প্রবাহ কি ? । বিক্ষুব্ধ প্রবাহ কি? – Studious

  3. Pingback: তাপ সঞ্চালন কাকে বলে? | তাপ সঞ্চালনের কয়টি প্রক্রিয়া ও কি কি – Studious

  4. Pingback: গতির সমীকরণ (Equations of Motion) | গতির সমীকরণ প্রতিপাদন – Studious

  5. গতি সম্পর্কে এখান থেকে বেসিকটা ভালো ভাবেই বুঝেছি যেটা আমার nRoll Academy এর Assignment Solve করতে অনেক হেল্প করেছে..

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের কাছে আপনার মূল্যবান feedback শেয়ার করার জন্য। আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পেরে খুবই আনন্দিত হয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page