Skip to content

ঘর্ষণ কাকে বলে? ঘর্ষনের প্রকারভেদ | ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা

ঘর্ষণ বল কাকে বলে, স্থিত ঘর্ষণ, চল ঘর্ষণ, ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা

হ্যালো বন্ধুরা আজ আমরা ভৌত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করবো, বিষয় টি হলো ঘর্ষণ বল, জানবো ঘর্ষণ বল কাকে বলে?, ঘর্ষণ কত প্রকার ও কি কি?, ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা ইত্যাদি।

ঘর্ষণ বল কাকে বলে ? 

ঘর্ষণ বল (Force of Friction): কোনো তলের ওপর স্থির অবস্থায় থাকা কোনো বস্তু যখন ওই তলের ওপর দিয়ে চলতে শুরু করে বা চলার চেষ্টা করে তখন দুটি তলের সংস্পর্শে একটি বল তৈরি হয়, যা ওই বস্তুর গতিকে বা গতির প্রচেষ্টাকে বাধা দেয়। তাকে ঘর্ষণ বল বলে।

ঘর্ষণ বল কখন ও কোথায় উদ্ভব হয় ?

পরস্পরের সংস্পর্শে থাকা দুটি তলের মধ্যে আপেক্ষিক গতি সৃষ্টি হলে বা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে গতি বা গতি উৎপাদনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে। তখন সংস্পর্শ তলের সমান্তরালে বস্তুর গতির বিপরীত দিকে ঘর্ষণ বল উদ্ভব হয়।

ঘর্ষণ বলের বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি 

সংস্পর্শে থাকা দুই বা ততোধিক তলের মধ্যে ক্রিয়াশীল ঘর্ষণ বলের নির্দিষ্ট কতকগুলি বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম বর্তমান। এই বৈশিষ্ট্যগুলিকে অনেক সময় ঘর্ষণের সূত্র বলে অভিহিত করা হয়।

ঘর্ষণের বৈশিষ্ট্য ( Characteristics of friction ):

  • পরস্পর সংস্পর্শে থাকা দুটি তলের মধ্যে যখন একটিকে অন্যটির সাপেক্ষে গতিশীল, অর্থাৎ বাহ্যিক বলের ক্রিয়ায় তল দুটির মধ্যে আপেক্ষিক গতি সৃষ্টি করা বা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তখন প্রযুক্ত বাহ্যিক বলের বিরুদ্ধে ঘর্ষণ বল ক্রিয়াশীল হয়।
  • ঘর্ষণ বল সর্বদা স্পর্শ করে থাকা দুটি তলের সমান্তরালে অর্থাৎ , স্পর্শকীয়ভাবে কাজ করে।
  • প্রযুক্ত বাহ্যিক বলের ক্রিয়াতেও বস্তু যদি স্থির অবস্থায় থাকে, তখন স্থির অবস্থার ঘর্ষণ এবং বলের ক্রিয়ায় বস্তুটি গতিশীল হলে , গতির বিরুদ্ধে গতীয় ঘর্ষণ সক্রিয় হয়।
  • ঘর্ষণ বলের মান ক্রিয়ারত তল দুটির মসৃণতা , প্রকৃতি ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রফলের ওপর একেবারেই নির্ভর করে না।
  • স্থিত ঘর্ষণ বা গতীয় ঘর্ষণের মান তল দুটির মধ্যে উল্লম্বভাবে ক্রিয়াশীল ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলের সমানুপাতিক হয়। এই প্রতিক্রিয়ার মান বৃদ্ধি পেলে ঘর্ষণের মান বাড়ে এবং কমলে তা হ্রাস পায়।
  • ঘর্ষণ বলের মান সংযোগে থাকা তলগুলির উন্নতার ওপর নির্ভর করে না। একই শর্তে গতীয় ঘর্ষণ বলের মান সর্বদা স্থিত ঘর্ষণ অপেক্ষা সামান্য কম হয়ে থাকে।

 

ঘর্ষণের প্রকারভেদ

ঘর্ষণ সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়।
1) স্থিত ঘর্ষণ
2) চল বা গতীয় ঘর্ষণ
3) আবর্ত ঘর্ষণ।
4) প্রবাহী ঘর্ষণ।

স্থিত ঘর্ষণ কাকে বলে ?

স্থিত ঘর্ষণ (Static friction): বল প্রয়োগ দ্বারা টানা সত্ত্বেও যখন কোনো বস্তু কোনো তলের ওপর স্থির হয়ে থাকে , তখন যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে , তাকে বলে স্থিত ঘর্ষণ। 

উদাহরণ : টেবিলের ওপর রাখা একটি বাক্সকে স্প্রিং তুলার সাহায্যে 9.8 নিউটন বল দিয়ে ডানদিকে টানা হল। বাক্সটি যদি স্থির থাকে, তবে এক্ষেত্রে স্থির অবস্থার ঘর্ষণ বল কাজ করবে, যার মান 9.8 নিউটন এবং অভিমুখ বামদিকে।

গতীয় ঘর্ষণ কাকে বলে ?

গতীয় ঘর্ষণ (Sliding friction) : বল প্রয়োগ করে টানার কারণে যখন কোনো বস্তু চলতে থাকে, তখন যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে, তাকে বলে গতিশীল অবস্থার ঘর্ষণ বা গতীয় ঘর্ষণ।

উদাহরণ : টেবিলের ওপর রাখা একটি বাক্সকে স্প্রিং তুলার সাহায্যে 9.8 নিউটন বল দিয়ে ডানদিকে টানা হল। এই বলের প্রভাবে বাক্সটি যদি চলতে শুরু করে, তবে গতিশীল অবস্থার ঘর্ষণ বল কাজ করবে , যার অভিমুখ বামদিকে। [ এক্ষেত্রে গতিশীল অবস্থার ঘর্ষণ বলের মান 9.৪ নিউটনের সমান নয় । এই বলের , মান শুধুমাত্র স্প্রিং তুলার সাহায্যে মাপা সম্ভব নয়।]

আবর্ত ঘর্ষণ কাকে বলে?

আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction): যখন কোন বস্তু অপর কোন তলের উপর দিয়ে গড়িয়ে চলে, তখন যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে আবর্ত ঘৰ্ষণ বলে।

উদাহরণ- ফুটবল, মার্বেল গুটি, লন-রােলার ইত্যাদি মাটির উপর দিয়ে চলার সময় এই ধরনের ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।

প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) কাকে বলে

যদি কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে একটি স্থির বস্তু থাকে কিংবা কোন গতিশীল বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থের ভেতর দিয়ে যেতে চায় তখন যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে।

উদাহরণ-স্থির তলের উপর দিয়ে তরল বা বায়বীয় পদার্থ প্রবাহিত হবার সময়, নদীতে নৌকা চলার সময় পানি ও নৌকার মধ্যে এ ধরনের ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।

ঘর্ষণ বলের সুবিধা ও অসুবিধা

ঘর্ষণ বলের সুবিধা:-

  • ঘর্ষণের জন্য আমরা কোন বস্তুকে হাতে ধরে রাখতে পারি। ঘর্ষণ না থাকলে বস্তুটি হাত থেকে পিছলে পড়ে যেত।
  • ঘর্ষণ আছে বলে আমরা হাটতে পারি,রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারে।

ঘর্ষণ বলের অসুবিধা:-

  • ঘর্ষণ গতির বিরুদ্ধে কাজ করে বলে ঘর্ষণ কে অতিক্রম করে গতি সৃষ্টি করতে হলে কাজ করতে হয়। ফলে আমাদের কষ্ট হয়।
  • যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশগুলির মধ্যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে অংশগুলোকে ক্ষয় করে। ফলে যন্ত্রপাতি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় ।

 

**স্থিত ঘর্ষণ ও গতিশীল অবস্থার ঘর্ষণের মধ্যে কোটির মান সর্বদা বেশি হয় এবং কেন ?

একই শর্তে দুটি নির্দিষ্ট তলের ক্ষেত্রে স্থির অবস্থার ঘর্ষণ ও গতিশীল অবস্থার ঘর্ষণের মধ্যে স্থির অবস্থার ঘর্ষণ বলের মান সর্বদা বেশি হয়। কারণ— গতিশীল অবস্থায় তল দুটির মধ্যে ঘর্ষণ বল কম হয়। একারণেই একটি স্থির গাড়িকে ঠেলে গতিশীল করতে যতটা বল প্রয়োগ করতে হয়, গাড়িটি গতিশীল হয়ে গেলে আর ততটা বল প্রয়োগ করতে হয় না।

Covered Topics:- ঘর্ষণ কাকে বলে?, ঘর্ষণ কিভাবে সৃষ্টি হয়?, ঘর্ষণের প্রকারভেদ, স্থিত ঘর্ষণ বল কাকে বলে?, চল বা গতীয় ঘর্ষণ কাকে বলে?, আবর্ত ঘর্ষণ কাকে বলে?, প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) কাকে বলে, ঘর্ষণ বলের সুবিধা ও অসুবিধা। image source-thecrushschool.com

 

Share this

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram

Related Posts

Comment us

2 thoughts on “ঘর্ষণ কাকে বলে? ঘর্ষনের প্রকারভেদ | ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page