Skip to content

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি? | চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফল ও সুফল

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুফল কুফল

লর্ড কর্নওয়ালিস ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:

হ্যালো বন্ধুরা, আজ আমরা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ topic নিয়ে আলোচনা করবো। ইতিহাসে আমরা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পর্কে কম বেশী জেনেছি। আজ আমরা আরও detail এ খুব ভাল ভাবে জানব “চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি?, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন এবং কেন?, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তাবলী, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুফল ও কুফল”

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি (what is permanent sattlement)?

বাংলার ভূমি রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়ে এক বিতর্কিত মুহূর্তে লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। তিনি লন্ডনের জমিদার বংশের সন্তান ছিলেন। সুতরাং জমিদারি বন্দোবস্তের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাঁর শাসনকালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কার্যকর হয়। তাহলেও কর্নওয়ালিস এই ব্যবস্থার প্রকৃত শ্রষ্টা ছিলেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে।

ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে যে ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের স্বপক্ষে আলাপ আলােচনা শুরু হয়েছিল। ফিলিপ ফ্রান্সিস এক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।

১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দের পিটের ভারত শাসন আইনেও জমিদারদের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে ভূমি রাজস্ব বন্দোবস্ত করার সুপারিশ করা হয়। তাই নরেন্দ্র কৃয় সিংহ বলেছেন, সীমিত অর্থে কর্নওয়ালিসকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তক বলা যেতে পারে।

সে যাই হউক কর্নওয়ালিস ইংল্যান্ডের অনুকরণে বাংলাদেশেও জমিদারদের সঙ্গে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে তাদের জমির মালিকানা স্বত্ব দিতে আগ্রহী ছিলেন। অবশেষে বিভিন্ন বিষয়ে আলােচনা ও অনুসন্ধানের পর কোম্পানির পরিচালক সভার অনুমােদন ক্রমে কর্নওয়ালিস তাঁর প্রবর্তিত দশ বছর মেয়াদী বন্দোবস্তকে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ‘ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রূপে ঘােষণা করেন।

 

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তাবলী:

লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তানুযায়ী জমিদাররা বংশানুক্রমে জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে। বিনিময়ে নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের আগে জমিদারদের নির্ধারিত রাজস্ব কোম্পানির সরকারকে দিতে হয়। শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে এবং সময়ের মধ্যে রাজস্ব জমা দিতে না পারলে সমস্ত জমিদারি বা কিছু অংশ বাজেয়াপ্ত হয়ে যেত জমিদারের দেয় রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়।

এছাড়া বলা হয় যে সরকারের বিনা অনুমােদনেই প্রয়ােজনে জমিদার ইচ্ছানুযায়ী তাঁর অধীন জমিদারি বিক্রয়, বন্ধক, দান বা অন্য কোনাে উপায়ে হস্তান্তর করতে পারবে।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর ফলাফল

⬕ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা ইংরেজ বণিক কোম্পানির অর্থনৈতিক স্বার্থ বেশ কিছুটা সুরক্ষিত হয়। লর্ড কর্নওয়ালিসও এই উদ্দেশ্যেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছিলেন।

তিনি একদা বলেছিলেন যে, জমিদার বা কৃষকদের স্বার্থের জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রতি তাঁর কোনাে উৎসাহ ছিল না। কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল কর্নওয়ালিসের এই বন্দোবস্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।

⬕ তিনি লক্ষ করেছিলেন যে , ওয়ারেন হেস্টিংসের রাজস্ব ব্যবস্থায় কোম্পানির আয়ের কোনাে নিশ্চয়তা ছিল না। অথচ তখন বিভিন্ন কারণে ইংরেজ বণিক কোম্পানির বিপুল অর্থের প্রয়ােজন ছিল। এত পরিমাণ অর্থ শুধুমাত্র বাংলার রাজস্ব থেকেই যােগানাে ছিল সহজ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা কর্নওয়ালিসের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ সম্ভব হয়।

অন্যদিকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুযােগে জমিদাররা জমির মালিকে পরিণত হয়। নতুন ব্যবস্থায় জমিদার তার মালিকানাধীন জমির উৎপাদন এবং মূল্যবৃদ্ধি থেকে প্রাপ্ত সমস্ত বর্ধিত আয় এবং উপার্জিত অর্থের সমস্তটা ভােগ করার সুযােগ লাভ করে। প্রয়ােজনে জমিদার তার জমি হস্তান্তর করতে পারত। এইজন্য সরকারের কোনাে অনুমতির দরকার ছিল না।

◪ পক্ষান্তরে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা কৃষকরা অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ব্যবস্থা তাদের শুধুমাত্র খাজনা দানকারী শােষিত শ্রেণিতে পরিণত করে। জমি ভােগ করা বা বনজঙ্গল, চারণভূমি ইত্যাদির উপরও কৃষকের কোনাে অধিকার ছিল না।

◪ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুযােগে জমিদাররা নিজেদের খেয়ালখুশী মতাে জমিপত্তনী দিতে শুরু করে। এর ফলে জমিদারি এলাকায় বহু মধ্যস্বত্ব ভােগীর সৃষ্টি হয় এবং কৃষকদের উপর খাজনার চাপ বৃদ্ধি পায়।

এইভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা বাংলায় এক নতুন অনুপস্থিত জমিদারশ্রেণি গড়ে ওঠে। এরা গ্রামের জমিদারি দেখাশুনার দায়িত্ব তাদের নায়েব – গােমস্তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে তারা ইংরেজ কোম্পানির নতুন রাজধানী ও বাণিজ্যকেন্দ্র কলকাতা নগরে বসবাস শুরু করে । জমিদারদের অনুপস্থিতির কারণে গ্রামীণ এলাকায় কৃষক শােষণ ও অত্যাচার বৃদ্ধি পায়। উপরন্তু জমিদারিতে বিনিয়ােগ নিরাপদ ও লাভজনক হওয়ায় অনেকেই জমিতে মূলধন বিনিয়ােগে উৎসাহী হয় । উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সামাজিক মর্যাদা সচেতন নব্য মধ্যবিত্তরাও জমিতে অর্থ বিনিয়ােগ শুরু করে । “ Members of the new middle class sought social recognition by becoming members of the landed gently ” — ফলে বাঙালি বিত্তবান শ্রেণিরা শিল্প ও বাণিজ্য বিমুখ হয়ে পরে । তাই বিনয় ঘােষ বলেছেন , কর্নওয়ালিস ও তার সমর্থকরা ভেবেছিলেন জমিদাররা জমির স্থায়ী স্বত্ব পেলে “ চাষবাসের উন্নতি হবে , গ্রাম সমাজের উন্নতি হবে এবং দেশের শ্রীবৃদ্ধি হবে । কিন্তু তাদের ধারণার ঠিক বিপরীত ফল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।

আশা করি বন্ধুরা আপনাদের post টি ভাল লেগেছে। আমাদের blog বিভিন্ন পোস্ট লেখার জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের ইমেইল এ email- [email protected]

Covered Topics: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফল ও সুফল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্ত গুলি কি কি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে সূর্যাস্ত আইন কেন বলে?, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল, লর্ড কর্ণওয়ালিশ এর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, what is permanent settlement?,

 

Share this

Related Posts

Comment us

2 thoughts on “চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি? | চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফল ও সুফল”

  1. Pingback: পাঁচশালা বন্দোবস্ত কি | ওয়ারেন হেস্টিংসের বিভিন্ন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা – Studious

  2. Pingback: সিপাহী বিদ্রোহ 1857 (মহাবিদ্রোহ) | সিপাহী বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল – Studious

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page