Skip to content

পাঁচশালা বন্দোবস্ত কি | ওয়ারেন হেস্টিংসের বিভিন্ন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা

পাঁচশালা বন্দোবস্ত কি | ওয়ারেন হেস্টিংসের বিভিন্ন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা

Dear students, আজ আমরা আবার এসেছি ইতিহাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার আলোচনা নিয়ে। আজ আমরা আলোচনা করবো লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস প্রবর্তিত পাঁচশালা বন্দোবস্ত সম্পর্কে। জানব পাঁচশালা বন্দোবস্তের পটভূমি কিভাবে হলো?, লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক পাঁচশালা বন্দোবস্তের উদ্দেশ্য, পাঁচশালা বন্দোবস্তের প্রভাব বাংলার কৃষক সম্প্রদায়ের উপর কিভাবে পড়েছিল, পাঁচশালা বন্দোবস্তের পরিবর্তে একশালা বন্দোবস্তের  প্রয়োজন কেনো পড়েছিল?, এরকম আরও তথ্য।

পাঁচশালা বন্দোবস্তের ( Five Year Land settlement) পটভূমি

ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য কোম্পানি প্রথম দিকে মোগলদের অনুসৃত নীতি গ্রহণ করে। দ্বৈত শাসনের অবসানের অবসানের পর ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস প্রত্যক্ষভাবে ভূমিরাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করেন এবং তিনিই প্রথম ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তােলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি একটি রাজস্ব বাের্ড গঠন করেন এবং কালেক্টররা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পান। তিনি নিলামে পাঁচ বছরের জন্য জমিদার পাঁচশালা বন্দোবস্ত বা ইজারাদারদের সঙ্গে জমির বন্দোবস্ত করেন (১৭৭২ খ্রিঃ)। এই ব্যবস্থাকে ও ত্রুটি ‘ ইজারাদারি ব্যবস্থা’ বা পঞসনা বন্দোবস্ত বা পাঁচশালা বন্দোবস্ত(১৭৭২-১৭৭৭ খ্রিঃ ) বলা হয়।

পাঁচশালা বন্দোবস্তের কুফল

পাঁচশালা বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় নানা অসুবিধা দেখা দেয়। পাঁচশালা বন্দোবস্ত ব্যবস্থার অসুবিধাগুলো নিচেই সুন্দর করে বর্ণনা করা হলো

  • সর্বোচ্চ হারে রাজস্ব দিতে সম্মত ব্যক্তিকে ইজারাদার নিযুক্ত করায় সে বেশি রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রজাদের উপর নির্যাতন চালাত। এতে কৃষকদের অবস্থা শােচনীয় হয়ে পড়ত।
  • সর্বোচ্চ রাজস্ব দিতে সম্মত হয়েও অনেক সময় জমিদার বা ইজারাদাররা সময়মতাে সরকারের রাজস্ব দিতে পারত না। এতে সরকারি আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।
  • জমিতে জমিদারের স্বত্ব অনিশ্চিত হওয়ায় তারা জমি বা কৃষকের উন্নতির দিকে নজর দিত না। নিলামের ফলে চিরাচরিত জমিদাররা প্রায়ই জমিদারিচ্যুত হতেন এবং তাঁদের স্থান পূরণ করত একজন ভুইফোড় ইজারাদার।

এই কারণে ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি পাঁচসালা বন্দোবস্তের পরিবর্তে ‘একশালা বন্দোবস্ত ‘ প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থাতেও নানা অসুবিধা দেখা দেয় এবং এর সঙ্গে পাঁচসালা বন্দোবস্তের অসুবিধাগুলিও যুক্ত হয়। সবচেয়ে বড়াে কথা, এতে রাজস্বের পরিমাণ সম্পর্কে কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। এইসব কারণে হেস্টিংসের আমলেই অনেকে জমিদারের সঙ্গে জমির ‘ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ’ – র কথা বলতে শুরু করেন।

যদি আমাদের পোস্ট এর দ্বারা উপকৃত হন বা পোস্ট টি ভালো লাগলে অবশই কমেন্ট এ জানাবেন।

Covered Topics: একশালা বন্দোবস্ত কি?, বাংলায় একশালা বন্দোবস্ত ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?, পাঁচশালা বন্দোবস্ত কত খ্রিস্টাব্দে কে প্রবর্তন করেন?, পাঁচশালা বন্দোবস্তের কুফল গুলি কি কি?, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কি? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফল এবং সুফল।

Share this

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram

Related Posts

Comment us

3 thoughts on “পাঁচশালা বন্দোবস্ত কি | ওয়ারেন হেস্টিংসের বিভিন্ন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা”

  1. Pingback: সিপাহী বিদ্রোহ 1857 (মহাবিদ্রোহ) | সিপাহী বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল – Studious

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page