Skip to content

নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরুপ | নদীর ক্ষয়কার্য কাকে বলে

নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

হ্যালো বন্ধুরা, ভূগোলের এই পর্বে আমরা আলোচনা করব নদীর বিভিন্ন কার্যের যেমন নদীর ক্ষয়কার্য , নদীর বহনকার্য, ও নদীর সঞ্চয়কার্য। আজ আমরা আলোচনা করব নদীর ক্ষয়কার্য সম্পর্কে, এবং নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরুপ সম্পর্কে। সুতরাং শুরু করা যাক।

নদীর ক্ষয়কার্য কাকে বলে ?

নদী তার জলস্রোতের সাহায্যে কঠিন শিলাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে বা স্থানচ্যুত করে নিজের পথ করে নেয়। একেই নদীর ক্ষয়কার্য।

নদীর ক্ষয়কার্য প্রক্রিয়া : পাঁচটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নদীর ক্ষয়কার্য সংঘটিত হয়। এগুলি হল —

  • অবঘর্ষ প্রক্রিয়া : নদীতে প্রবাহিত শিলাখণ্ডের সঙ্গে নদীখাতের ঘর্ষণের ফলে বিভিন্ন গর্তের (মন্থকূপ) সৃষ্টি হয় এবংনদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরুপ নদীখাত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • ঘর্ষণ ক্ষয় : নদীতে বাহিত শিলাখণ্ডগুলি পরস্পরের সঙ্গে ঘর্ষণে নুড়ি ও বালুকণায় পরিণত হয়।
  • জলপ্রবাহ ক্ষয়: প্রবল জলস্রোতে নদী উপত্যকার দুপাশের কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এইভাবে নদীর পাড় ক্রমশ ভাঙতে থাকে ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • বুদবুদ ক্ষয় : নদীতে জলাবর্তের সৃষ্টি হলে অসংখ্য বুদবুদের (bubble) সৃষ্টি হয়। বুদবুদের আঘাতে নদীগর্ভের শিলাস্তর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  • দ্রবণ ক্ষয় : নদীর গতিপথে চুনাপাথর বা লবণের স্তর অবস্থান করলে তা জলে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

আরও পড়ুন:

নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

নদীপ্রবাহের সমস্ত অংশেই নদীর ক্ষয়কার্য লক্ষ করা গেলেও পার্বত্য প্রবাহে বা উৎস অঞলেই নদীর ক্ষয়কার্য সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।

নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে নানা ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়। উল্লেখযােগ্য ভূমিরূপগুলি হল—

I ও V-আকৃতির নদী উপত্যকা (I and V shaped valley) : পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল জলস্রোত ও বাহিত শিলাখণ্ডের সঙ্গে নদীখাতের ঘর্ষণের ফলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এর ফলে নদী উপত্যকা সংকীর্ণ ও গভীর হয়ে ইংরেজি অক্ষরের আকার ধারণ করে। অনেক সময় নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও ঘটে। ফলে নদী উপত্যকা গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য চওড়া হয়ে ইংরেজি ‘ v ’ আকৃতির আকার ধারণ করে।

গিরিখাত ও ক্যানিয়ন (Gorges and Canyons) : পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক নিম্নক্ষয়ের ফলে যে সংকীর্ণ ও গভীর নদী উপত্যকার সৃষ্টি হয় তাকে গিরিখাত বলে।
উদাহরণ : সিন্ধু, শতদ্রু, গঙ্গা প্রভৃতি নদী তাদের পার্বত্য প্রবাহে বহু গিরিখাতের সৃষ্টি করেছে। শতদ্রু নদীর গিরিখাত এবং ইয়াংসি নদীর ইচাং গিরিখাত উল্লেখযােগ্য।

শুষ্ক অঞ্চলের গিরিখাতকে ক্যানিয়ন (canyon— স্পেনীয় শব্দ canon- এর অর্থ নল বা টিউব) বলা হয়।
উদাহরণ : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কলােরাডাে নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত (483 km দীর্ঘ , 12 km প্রশস্ত , সর্বাধিক গভীরতা 1900 মিটার)। দক্ষিণ পেরুর কল্কা নদীর গিরিখাত পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত (সর্বাধিক গভীরতা 4370 মিটার ও 3233 মিটার)।

জলপ্রপাত (Waterfalls) : নদী তার প্রবাহপথে হঠাৎ খাড়া ঢাল বরাবর নীচে পড়লে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়

জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণ :
1) নদীর গতিপথে চ্যুতির সৃষ্টি হলে (জাম্বেসি জলপ্রপাত)
2) নদীর গতিপথে লাভাস্তুর অবস্থান করলে
3) ভূ-আন্দোলনের ফলে নদীর গতিপথে খাড়া ঢালের সৃষ্টি হলে
4) মালভূমির প্রান্তভাগে খাড়া ঢালে (হুডু জলপ্রপাত),
5) হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ঝুলন্ত উপত্যকার খাড়া ঢালে (য়ােসেমিতি জলপ্রপাত)
6) কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পাশাপাশি অবস্থান করলে কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাড়া ঢালে (নায়াগ্রা জলপ্রপাত) জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লরেন্স নদীর ওপর নায়াগ্রা জলপ্রপাত। দক্ষিণ আফ্রিকার জাম্বেসি নদীর ওপর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলায় রিও করােনি নদীর অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত (পৃথিবীর উচ্চতম , 980 মিটার), ভারতের কর্নাটকরাজ্যের শরাবতীনদীর ওপর যােগ বা গেরসােপা জলপ্রপাত (দেশের সর্বোচ্চ, 275 মিটার) প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য জলপ্রপাত

খরস্রোত (Cataracts) : পার্বত্য অঞ্চলে নদীর প্রবাহপথে অবস্থিত নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ধাপযুক্ত প্রবল গতিসম্পন্ন জলস্রোতের সৃষ্টি করে। একে খরস্রোত বলে। খার্তুম থেকে আসােয়ান পর্যন্ত নীলনদের গতিপথে 6 টি বিখ্যাত খরস্রোত লক্ষ করা যায়। জলপ্রপাত ধাপে ধাপে সৃষ্টি হলে তাকে কাসকেড বলে। জলপ্রপাতের মধ্য দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জল প্রবাহিত হলে ক্যাটারাক্ট-এর সৃষ্টি হয়

কর্তিত অভিক্ষিপ্তাংশ (Truncated spur): পার্বত্য অঞ্চলে নদীপথের ঢাল হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে তীব্র জলস্রোতের প্রভাবে পার্শ্ববর্তী শৈলশিরার প্রসারিত অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং নদী সােজা পথে বয়ে চলে। শৈলশিলার প্রসারিত অংশ ক্ষয় পেয়ে কর্তিত অভিক্ষিপ্তাংশ ভূমিরূপের সৃষ্টি করে।

আবদ্ধ অভিক্ষিপ্তাংশ (Interlocking spur): পার্বত্য অঞলে নদীর গতিপথে শৈলশিরার অভিক্ষিপ্ত অবস্থান করলে নদী সামান্য বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয়। এরূপ অবস্থায় দূর থেকে দেখলে শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশগুলিকে আবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায় এবং নদীর গতিপথ আড়াল হয়ে যায়। এরূপ অবস্থাকে আবদ্ধ অভিক্ষিপ্তাংশ বলে।

মন্থকূপ (Pot holes) : উচ্চগতিতে নদীর প্রবল স্রোতের টানে বাহিত শিলাখণ্ডগুলি অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীর তলদেশে ও পাড়ের শিলাখণ্ডে ছোটো ছােটো গােলাকার উলম্ব গর্তের সৃষ্টি করে। এরূপ উলম্ব গর্তকে মন্থকূপ বলে। অসংখ্য কুপ পাশাপাশি অবস্থান করলে তাকে মন্থকূপ কলােনি বলে । ঝাড়খণ্ডে খরকাই নদীতে সরাইলাের নিকট এরূপ মন্থকূপ কলােনি দেখা যায়।

প্রপাত কূপ (Plunge pol) : জলপ্রপাতের নীচে প্রবল জলস্রোতের আঘাতে এবং জলঘুর্নির সৃষ্টির ফলে বুদবুদ ক্ষয়ের মাধ্যমে মন্থকূপের মতাে বড়াে গর্তের সৃষ্টি হয়। এদের প্রপাত কূপ বলে।

Image credit- slideshare.net

Share this

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram

Related Posts

Comment us

2 thoughts on “নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরুপ | নদীর ক্ষয়কার্য কাকে বলে”

  1. Pingback: নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ | নদীর সঞ্চয় কার্য – Studious

  2. Pingback: হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ চিত্রসহ | হিমবাহের ক্ষয়কার্য – Studious

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page