Skip to content

আগ্নেয় শিলা কাকে বলে ? আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ করো।

আগ্নেয়-শিলা-কাকে-বলে-আগ্নেয়-শিলার-শ্রেণীবিভাগ-করো (1)

নমস্কার প্রিয় পাঠকেরা, আজ আমরা আপনাদের কাছে শেয়ার করছি আগ্নেয় শিলা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য অর্থাৎ ( আগ্নেয় শিলা কাকে বলে ? আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য ) এই বিষয় থেকেও সরকারী চাকরির পরীক্ষায় সাধারনত প্রশ্ন এসে থাকে । সমস্ত রকম সরকারী চাকরির পরীক্ষার Syllabus কে অনুসরণ করে নোটসটি বানানো হয়েছে। আশা করি এই রকম গুরুত্বপূর্ণ জেনারেল নলেজের মাধ্যমে আপনাদের প্রস্তুতিটা খুব মজবুত করে তুলবেন ।

আগ্নেয় শিলা কাকে বলে ?

● সংজ্ঞা : উত্তপ্ত তরল অবস্থা থেকে তাপ বিকিরণের ফলে শীতল ও কঠিন হওয়ার সময়ে ভূ – ত্বক ও ভূ – আভ্যন্তরের বিভিন্ন উপাদান জমাট বেঁধে কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি করে , তাকে আগ্নেয় শিলা বলে ।

উত্তপ্ত পদার্থ বা ম্যাগমা জমাট বেঁধে সৃষ্টি হওয়ায় এই শিলাকে আগ্নেয় শিলা বলা হয় ( Igneous Rocks : ল্যাটিন শব্দ ‘ Ignis’- এর অর্থ হল অগ্নি ) । আগ্নেয় শিলা অন্য কোন শিলা থেকে গঠিত হয়নি , তাই একে প্রাথমিক শিলাও বলে । আগ্নেয় শিলার মধ্যে কোন স্তর থাকে না , তাই আগ্নেয় শিলাকে অস্তরীভূত শিলাও বলে । ভূত্বকের প্রায় ৮০ % অংশ আগ্নেয় শিলায় গঠিত ।
উদাহরণ : ব্যাসল্ট , গ্রানাইট , ডোলেরাইট প্রভৃতি পাথর আগ্নেয় শিলার উদাহরণ ।

● ম্যাগমা : ম্যাগমা হল বিভিন্ন রকমের উত্তপ্ত তরল শিলার মিশ্রণ , যা কোন ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূ – ত্বকের ওপর বা নীচে সঞ্চিত হয় । প্রথম অবস্থায় ম্যাগমার মধ্যে বিভিন্ন রকমের গ্যাস ও জলীয় বাষ্প থাকে । কিন্তু ম্যাগমা যখন ফাটল বা ছিদ্র পথে ভূপৃষ্ঠের ওপর উঠে আসে তখন তার মধ্যে থেকে গ্যাস ও জলীয় বাষ্প বেরিয়ে যায় এবং তখন ম্যাগমাকে লাভা বলে । ম্যাগমা ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় এবং আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি করে । ভূ – ত্বকের নীচে অবস্থিত গুরুমণ্ডল বা ম্যান্টল হল ম্যাগমার উৎসস্থল ।

আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য :


( ১ ) আগ্নেয় শিলার মধ্যে কোন স্তর নেই ;
( ২ ) আগ্নেয় শিলার মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায় না ;
( ৩ ) পৃথিবী গঠনকারী বিভিন্ন মৌলিক পদার্থ মিলেমিশে ঘন সংবদ্ধভাবে দানা বেঁধে আগ্নেয়শিলা শিলা গঠন করেছে ;
( ৪ ) এই শিলা পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার চেয়ে তুলনামূলকভাবে ভারী ;
( ৫ ) প্রকৃতিতে এই শিলা অত্যন্ত কঠিন বলে সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না ;
( ৬ ) সময়ে সময়ে এই শিলাকে দেখতে স্ফটিকাকার বা কাঁচের মত হয় ।
ভারতবর্ষের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চল আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত ।

আরও পড়ুন……
ভারতের জাতীয় উদ্যানের তালিকা পিডিএফ

[ ক ] উৎপত্তি অনুসারে আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ
আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ : সৃষ্টির বিভিন্নতা অনুসারে আগ্নেয় শিলাকে মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায় , যথা :
( ক ) নিঃসারী ও ( খ ) উদবেধী আগ্নেয় শিলা ।
[ ক ] নিঃসারী আগ্নেয় শিলা ( Extrusive or Volcanic Rock ) : ভূ – গর্ভের উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা অগ্ন্যুৎপাতের সময় আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে ভূ – পৃষ্ঠের ওপর লাভারূপে প্রবাহিত হবার সময় ঠাণ্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এসে শীতল ও কঠিন হয়ে যে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে তাকে নিঃসারী আগ্নেয় শিলা বলে । দ্রুত জমে যাওয়ায় এই শিলার কণাগুলি খুবই সূক্ষ্ম থাকে ।
নিঃসারী আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য :
( ১ ) নিঃসারী আগ্নেয় শিলার আপেক্ষিক ঘনত্ব বেশী হয় ;
( ২ ) দ্রুত জমাট বাধার ফলে নিঃসারী আগ্নেয়শিলার দানাগুলো খুব সুক্ষ্ম হয় ;
( ৩ ) নিঃসারী আগ্নেয় শিলার রঙ খুব গাঢ় হয়

নিঃসারী শিলার উদাহরণ : ব্যাসল্ট একটি নিঃসারী আগ্নেয় শিলা । ট্রাম লাইন বা রেল লাইনের ধারে যে কালো রঙের পাথর দেখতে পাওয়া যায় , তাই হল ব্যাসল্ট শিলা । পশ্চিমবঙ্গের রাজমহলের পাহাড়গুলি ব্যাসল্ট শিলায় তৈরী।ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে গঠিত পাহাড়ের চূড়াগুলো চ্যাপ্টা মত দেখতে হয় । ক্ষয়প্রাপ্ত ব্যাসল্ট শিলায় সিড়ির মত ধাপ দেখতে পাওয়া যায় , একে ট্রাপ বলে ।

● নিঃসারী আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ : উৎপত্তি অনুসারে নিঃসারী আগ্নেয় শিলাকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় , যথা :
( ১ ) লাভা শিলা এবং ( ২ ) পাইরোক্লাস্টিক শিলা ।
O ( ১ ) লাভা শিলা : আগ্নেয়গিরির লাভা ঠাণ্ডা হয়ে ও জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাকে লাভা শিলা বলে । বেশীরভাগ নিঃসারী শিলা এই জাতীয় লাভা শিলা ( উদাহরণ : ব্যাসল্ট ) ।
O ( ২ ) পাইরোক্লাসটিক শিলা : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত এবং আগে থেকে জমে কঠিন হয়ে আসা লাভা , ভস্ম প্রভৃতি ছোট ছোট শিলাখণ্ডকে পাইরোক্লাসটিক শিলা বলে ।
উদাহরণ : টাফ ( Tuff ) শিলা ।

[ খ ] উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলা : ভূ – গর্ভের উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা অনেক সময় ভূ – পৃষ্ঠে পৌঁছুতে না পেরে ভূ – গর্ভের ভেতরেই বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে জমে শীতল হয়ে কঠিন শিলায় পরিণত হয় , এই শিলাকে উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলা বলে ।

উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য :
( ১ ) উদ্‌বেধী শিলার আপেক্ষিক ঘনত্বনিঃসারী শিলার তুলনায় কম হয় ;
( ২ ) ধীর গতিতে জমাট বাঁধার ফলে উদ্‌বেধী আগ্নেয়শিলার দানাগুলো নিঃসারী শিলার তুলনায় স্কুল হয় ;
( ৩ ) উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলার রঙ হালকা হয় ।

● উদ্‌বেধী শিলার শ্রেণীবিভাগ : উদ্‌বেধী শিলা আবার দু’ধরনের হয় , যথা : ( ১ ) পাতালিক এবং ( ২ ) উপপাতালিক উদ্‌বেধী শিলা ।
o [ ১ ] পাতালিক শিলা : উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ – পৃষ্ঠের অনেকটা নিচের দিকে অতি ধীরে ধীরে বহু বছর ধরে শীতল , কেলাসিত ও কঠিন হলে তাকে পাতালিক শিলা বলে । ধীরে ধীরে শীতল হওয়ায় এই শিলার কণাগুলি বড় বড় হয় । গ্রানাইট উদ্‌বেধী পাতালিক শিলার উদাহরণ । সাধারণত অভ্র , কোয়ার্টজ ,ফেলসপার প্রভৃতি খনিজ পদার্থ দিয়ে গ্রানাইট শিলা গঠিত হয় । এই শিলা দিয়ে গঠিত পাহাড়ের চূড়াগুলো গোলাকার হয় । দাক্ষিণাত্য মালভূমি , ছোটনাগপুর প্রভৃতি অঞ্চলে গ্রানাইট শিলা দেখা যায় । প্রকৃতিতে খুবই শক্ত হওয়ায় রাস্তাঘাট প্রভৃতি নির্মাণে গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করা হয় ।
o [ ২ উপপাতালিক শিলা : উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ – পৃষ্ঠে পৌঁছুতে না পেরে ভূ – ত্বকের অল্প নীচে বা ভূ – ত্বকের ফাটলের মধ্যেই শীতল এবং কঠিন হয়ে শিলায় পরিণত হলে তাকে উপপাতালিক শিলা বলে । উপপাতালিক শিলা পাতালিক শিলার তুলনায় দ্রুত জমাট বাঁধে । উদাহরণ : ডোলেরাইট এবং পরফাইরি এই শিলার উদাহরণ ।

[ খ ] রাসায়নিক গঠন অনুসারে আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ
রাসায়নিক গঠন অনুসারে আগ্নেয় শিলাকে চার ভাগে ভাগ করা হয় , যথা :
( ১ ) আম্লিক শিলা বা অ্যাসিডিক রক : এই জাতীয় শিলার মধ্যে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ হয় খুব কম এবং সিলিকা বা বালির পরিমাণ থাকে বেশ বেশী ( ৬৫ % ) । উদাহরণ : গ্রানাইট শিলা ;
( ২ ) মধ্যবর্তী শিলা বা ইন্টারমিডিয়েট রক : এই জাতীয় শিলার মধ্যে ক্ষারকীয় অক্সাইড এবং সিলিকা দুইয়ের পরিমাণই কম থাকে ; উদাহরণ : ডাইওরাইট ;
( ৩ ) ক্ষারকীয় শিলা বা বেসিক রক : এই জাতীয় শিলার মধ্যে সোডিয়াম , পটাসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ থাকে বেশী ( ৪৫ % ) ; উদাহরণ : ব্যাসল্ট ;
( ৪ ) অতি ক্ষারকীয় শিলা বা আলট্রা বেসিক রক : এই জাতীয় শিলার মধ্যে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ বেশ বেশী ( ৫৫ % ) উদাহরণ : পেরিডোটাইট ।

Share this

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram

Related Posts

Comment us

1 thought on “আগ্নেয় শিলা কাকে বলে ? আগ্নেয় শিলার শ্রেণীবিভাগ করো।”

  1. Pingback: রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks) কাকে বলে? রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য – Studious

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Facebook Page