গ্রন্থি কাকে বলে? | বহিঃক্ষরা গ্রন্থি | অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি | মিশ্র গ্রন্থি

গ্রন্থি (Gland) কাকে বলে ? গ্রন্থি কত প্রকার ও কী কী ?

উন্নত প্রাণীদেহে আবরণীকলার ক্ষরণকারী কোশসমষ্টিকে গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড বলে।

গ্রন্থির প্রকারভেদ:

গ্রন্থি তিনপ্রকার, যথা—
1) বহিঃক্ষরা বা এক্সোক্রিন গ্রন্থি ( যেমন— লালাগ্রন্থি, পাকগ্রন্থি প্রভৃতি )
2) অন্তঃক্ষরা বা এন্ডােক্রিন গ্রন্থি ( যেমন- পিটুইটারি গ্রন্থি , থাইরয়েড গ্রন্থি প্রভৃতি )
3) মিশ্র গ্রন্থি বা মিক্সড গ্ল্যান্ড ( যেমন- অগ্ন্যাশয় , শুক্রাশয় , ডিম্বাশয় প্রভৃতি )

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বা সনাল গ্রন্থি ( Exocrine Gland)

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বা সনাল গ্রন্থি কাকে বলে?

যে সমস্ত গ্রন্থি নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ গ্রন্থির নিজস্ব নালির মাধ্যমে বাহিত হয়ে ক্রিয়াস্থানে পৌছােয় , তাদের বহিঃক্ষরা গ্রন্থি ( Exocrine Gland ) বা সনাল গ্রন্থি ( Duct Gland ) বলে। যেমন — লালা গ্রন্থি , পাকগ্রন্থি , যকৃৎ প্রভৃতি।

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বা সনাল গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য :

( i ) গ্রন্থি নিজস্ব নালিযুক্ত বা সনাল প্রকৃতির হয় ।

( i ) গ্রন্থি ক্ষরিত রস নালির মাধ্যমে ক্রিয়াস্থলে পৌছায় ।

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বা সনাল গ্রন্থির গ্রন্থির কাজ :

উৎসেচক ক্ষরণ করে যা দেহের বিভিন্ন পরিপাক , বিপাক ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে । উদাহরণ— লালাগ্রন্থি , পাকগ্রন্থি ইত্যাদি ।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা অনাল গ্রন্থি (Endocrine Gland)

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কাকে বলে?

যে সমস্ত গ্রন্থির কোনাে ক্ষরণনালি থাকে না এবং যাদের নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি রক্তে ক্ষরিত হয় ও লক্ষ্যকোশে পৌঁছায়, তাদের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা অনাল গ্রন্থি (Endocrine Gland) বলে।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা অনাল গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য

(i) গ্রন্থি নিজস্ব নালিবিহীন বা অনাল প্রকৃতির হয়।

( ii ) গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত পদার্থ সরাসরি রক্তে মেশে এবং লক্ষ্য কোষে পৌঁছায়

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা অনাল গ্রন্থির কাজ

(i) হরমােন ক্ষরণ কারে,
(ii) দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজে সাহায্য করে।
উদাহরণ পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি , অড্রিনালিন গ্রন্থি

মিশ্রগ্রন্থি (Mixed Gland)

মিশ্রগ্রন্থি (Mixed Gland) কাকে বলে?

যে সমস্ত গ্রন্থি অন্তঃক্ষরা ( হরমােন ক্ষরণকারী অংশ) এবং বহিঃক্ষরা ( উৎসেচক ক্ষরণকারী অংশ ) উভয় গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত, তাদের মিশ্রগ্রন্থি ( Mixed Gland ) বলে।

**অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিকে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন?

অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি একই সঙ্গে অন্তঃক্ষরা বা নালিবিহীন গ্রন্থি ( আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যানস ) এবং বহিঃক্ষরা বা নালিযুক্ত গ্রন্থি ( অ্যাসিনি ) দ্বারা গঠিত। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমােন ক্ষরিত হয় যা শরীরে বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎসেচক ক্ষরিত হয় যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। এ কারণে অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলে।

মিশ্রগ্রন্থির (Mixed Gland) বৈশিষ্ট্য

(i) সনাল বা বহিঃক্ষরা গ্রন্থি এবং অনাল বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিযুক্ত হয়।

(ii) বহিঃক্ষরা অংশের ক্ষয় নালির মাধ্যমে ক্রিয়াস্থলে এবং অন্তঃক্ষরা অংশের ক্ষরণ রক্তের মাধ্যমে ক্রিয়াস্থলে পৌঁছায়।

মিশ্রগ্রন্থির (Mixed Gland) কাজ

(i) বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎসেচক এবং
(ii) অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমােন ক্ষরিত হয়।

উদাহরণ— অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয়।

1 thought on “গ্রন্থি কাকে বলে? | বহিঃক্ষরা গ্রন্থি | অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি | মিশ্র গ্রন্থি”

Leave a Comment